Posts

Showing posts from September, 2020

বর্ষায় নিমন্ত্রণ - শাকের নাজির

Image
 তুমি এসো এক ঝুম বর্ষায় সন্ধ্যা মালতী হয়ে।  এসো পাতা ছুঁয়ে চুঁইয়ে পড়া জলবিন্দু হয়ে। এসো জল জমা উঠোনে হাসের খেলা হয়ে। তুমি এসো মেঘদূত হয়ে মেঘেদের শাব্দিক ঝিলিকে, এসো মেঘ-রোদ্দুর লুকোচুরিতে উঁকি দেয়া সূর্য-আভার ধূসর রঙ মেখে। তুমি এসো বালকের দুষ্টুমির ভেলায় চড়ে।  তুমি এসো আধ ভেজা অষ্টাদশীর তনু হয়ে। তুমি এসো টুপটাপ শব্দে অবিরাম বর্ষণরত কার্তিকের অলস দুপুরে হেয়ালি বৃষ্টি হয়ে।  এসো কদম কেয়ার সৌরভ মেখে নকশিকাঁথায় চঞ্চলা কিশোরীর ভাবনার নকশা হয়ে। তুমি এসো এক বর্ষণমুখর বর্ষায়?

নামকরণ - সাথী

Image
এই শহরে আমি অভাব বলতে যা বুঝি-  আমি তাদের নাম দিয়েছি ভালোবাসা এই শহরে আমি ঘৃণা বলতে যা বুঝি- আমি তাদের নাম রেখেছি সম্পত্তি, মালিকানা এই শহরে যা কিছু অভ্যেস, যা কিছু ভাবায় খুব-  তাদের আমি স্মৃতি বলি এই শহরে যারা বুঝেও না বোঝার ভান করে নিজের - বোঝা চাপিয়ে দেয় অন্যের ঘাড়ে-  তাদের আমি গনতন্ত্র বলি এই শহর যখন জল থৈ থৈ, বজ্রপাতে কান ঢাকা দায়- তখন জলের মানে মিছিল বুঝি, বজ্রপাত কে শ্লোগান ভাবি এই শহরে, একমুঠো ভাতের জন্য যারা মরে যায় তাদের আমি শহীদ বলি।

বিরিয়ানি - চিত্রদীপ বসু

Image
মন খারাপের বিষন্নতায় তোকে যে চাই ,  খিদের পেটে ডিনার পাতে তোকে শুধু চাই ,  কেউ যখন জিজ্ঞেস করে কি খাবি আয়  মনের ভেতর থেকে তোর নামটাই পাই ।  আসুক যতই ঝড় ঝাপটা সামনে পেলে তোকে  সব যে যাই আমি ভুলে ,  ব্যাথিত মনের অশ্রুকথা নিমেষে হয় দূর  প্লেটভর্তি সুগন্ধি নিয়ে তোকে কাছে পেলে ।  হোক চিকেন কিংবা মটন  তুমিই আমার প্রথম ফুড ক্রাশ ,  সামনে তোমায় পেলে ভুলে যাই সব  পেট ভরে করে ফেলি গ্রাস ।  কেউ মজে ফ্রায়েড রাইসে কেউ বা চায় পোলাও মাংস,  আমার মনে তুমিই সেরা গো বিরিয়ানী  তোমার নামে সঁপেছি হৃদয়ের একাংশ  ॥

রাষ্ট্র কিংবা নেতা - শরিফুল ইসলাম

Image
রাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পথিমধ্যে, রাষ্ট্র আমায় থামিয়ে বললেন; কোথায় যাচ্ছেন? আমি রাষ্ট্রকে বললাম- যে রাষ্ট্রে আমার মা, বিনাচিকিৎসায় মারা যায়; সে রাষ্ট্রে আমি আর থাকবো না। আমার কথা শুনে রাষ্ট্র নিশ্চুপ, মর্মাহত; নীরবতা ভেঙ্গে রাষ্ট্র যখন কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনি; রাষ্ট্রকে থামিয়ে দিয়ে, রাষ্ট্রের এক নেতা বললো; চিকিৎসা করার মতো, তোমার মায়ের অর্থ ছিলো? আমি বললাম, যা ছিলো তা আপনার মতো; কিছু চাউল চোর আত্মসাৎ করে নিয়েছে! নেতা মুচকি হাসলো, এ যেনো বিদ্রূপের হাসি; নেতা বললো, তাহলে তার মৃত্যুই শ্রেয় হয়েছে! আমি আবার বললাম, যে রাষ্ট্রে আমার বোনের নিরাপত্তা নেই; ধর্ষনের বিচার নেই, সে রাষ্ট্রে আমি বসবাস করবো না। রাষ্ট্র আবারো কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু বলতে পারলোনা, রাষ্ট্রের সেই নেতা, আবারও বলে ওঠলো- রাষ্ট্র ডিজিটাল হয়েছে, নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে; তারা অবাধ বিচরণ করতে পারে, ছেলেদের মতো শার্টপ্যান্ট পড়তে পারে; খোলামেলা পোষাকে ঘুরতে পারে। অবৈধ সম্পর্ক গড়তে পারে, তার মাঝে দু’চারটা ধর্ষন হতেই পারে; এতে রাষ্ট্রের কোনো দায়ভার নেই! নেতার কথা শুনে আমি স্তম্বিত, বিস্মিত! তারপর, ...

লেখনি - অরবিন্দ সরকার

Image
আমি লিখতে ভালবাসি বলেই লিখি ! কেউ পড়লো বা না পড়লো, প্রশংসার বাণী শুনতে নয়? কলমের কালি নিঃশেষিত না হওয়া পর্যন্ত লিখবো! আমি যে কলমবাগীশ ? লেখার আঁচরে শোভা পায়- ছবি, কলমের আঁচরে তোমাদের অভিসন্ধি , মুখোশের কারচুপি, উদোম করি আমি কবি? কবিতায় ছন্দ,লেখায় আনন্দ, জীবন না মরণমুখী সেটা বাণীতে লিপিবদ্ধ! অসাধ্য সাধন, প্রতিবাদের ভাষা  এ কলম হয়ে ওঠে তরবারি! কলমের ঝলকানিতে,প্রতিবাদী ভাষা গর্জ্জায়,শুরু হয় ছটফটানি? প্রমাদ গোনে বারুদঠাসা কলমে লেখার কানাকানি! শতমিছিলের পদধ্বনির আগে ফেস্টুনে লেখা এটাও কবির বাণী ! কবিতা যে ভাষায় বলতে পারে, লড়াইয়ে তীব্র বাক্যবান হানতে পারে, এঁকে দিয়ে আল্পনি!!

অঙ্ক - চিত্রদীপ বসু

Image
ধাঁধাঁর সুরে বাঁধা যে তুমি  সূত্র আর ফর্মুলার নানাবিধ ধুম , যোগ বিয়োগ গুণ ভাগের মায়া পেরিয়ে দুর্বোধ্য ক্যালকুলাস  কষতে গিয়ে কেউবা হয় ব্রিলিয়ান্ট কারো উড়ে যায় রাতের ঘুম । বীজগণিত জুড়ে রয়েছে শুধু যোগ বিয়োগের ফর্মুলা খেলা,  পাটিগণিতে আছে হিসেব নিকেশের জবরদস্ত মেলা।  চৌকনা কিংবা হোক গোলাকার  তোমার এলাকা দেবে বলে পরিমিতি ,  স্কেল পেন্সিল কাঁটা কম্পাসে দেবো এঁকে জ্যামিতি । তোমার আমার কৌনিক সূত্রের খেলায় আছে মহান ত্রিকোণমিতি ,  কে কোথায় আছে বোঝাতে  গ্রাফচার্টেতে যে মাতি ।  উচ্চকালে আমরা মাতি সমাধানে ক্যালকুলাস , ডেরিভেটিভ আর ইন্টিগ্রেশনের ফর্মুলাতে  মাথা হয় এপাশ ওপাশ ।  জীবন মানেই হিসেব নিকেশ খেলা  সেই খেলাতেই থাকে জড়িয়ে আনন্দ আর আতঙ্ক,  দেনা পাওনা লাভ ক্ষতির মাঝেই উঠেছে গড়ে ব্যবসা থেকে বানিজ্য  এসবের মাঝেই থাকবে অনন্তকাল তুমি 'অঙ্ক'॥

শাপলাময় গোধূলি বিকেল - রেহনুমা লাবণ্য

Image
বেপরোয়া মন আউড়ে দোলা দিয়ে যায় আকাশে বাতাসে, আজ বাতাসও মাতাল কিছু খুনসুটি প্রতিচ্ছবিতে আয়নাতে,বায়নাতে শতসহস্র গোধূলি বিকেলের সৌন্দর্যে হয়তো মাঝে মাঝে এলোমেলো আমি আবার মাঝে মাঝে ঠিক এভাবেই জীবন এগিয়ে যায় মৃত্যুর দিক।

প্রেম ফিরে এসো - আসরাফ আলী শেখ

Image
ভেবে ছিলাম আসবো     না ,পারলাম না, ভালো বাসি ! তবে দেরি হয়েছে বলে দুঃখ পায় নি ! জানি ভালো বাসো না! ঐ দেখ পিছু নিয়েছে  স্মৃতির ঝাঁক , একে একে সবাই ! কি যে হলো তোমাদের কেউ কিছু বলছো না? কৃষ্ণ চূড়া ,, আমি চাই তোমারা আবার এসো আমার আঙিনায় ! ভাঙা ব্রিজ , আমি চাই তোমারা তোমার কানে কানে ঐ প্রেমের গুঞ্জন করো ! সাইকেল, আমি চাই  তোমারা আবার আমার ঘাড়ে বসো হেলে দুলে চলো ! কি যেন চিৎকার ! না না , তোমারা চুপ করো ,  আমি আত্মহত্যা করেছি !  না না প্রেম তুমি  তাই পারো না , ঐ দেখ নতুন জুটি ওরা  আমাকে বাঁচাতে পারে,  এসো এসো  স্মৃতি ,  এসো আমার মন আবার , আমরা ফিরে যায়  ওদের হৃদয়ে ওরা প্রেম করুক ।

ছেলেবেলা - অরবিন্দ সরকার

Image
ভবিষ্যতের প্রথম বেলা ছেলে বেলা! দিনের প্রথম বেলা জানান দেয়  সারাদিনের খেলা? বীজের অঙ্কুরে যত্নবান, পরিচর্যা, সাবলীল গতি  পরিচ্ছন্ন মুক্তবায়ূ ,তপনতাপ, ধাপ প্রথম বেলা? নির্দিষ্ট মাত্রায় সেবা, হাসিখুশির দিগ্বিদিকজ্ঞানশূণ্য  সীমাহীন অতিক্রম! পর্যাপ্ত অনুশীলনের দাস! তর্জনীর ব্যবহার, চোখরাঙানির অপব্যবহার ,এগুলি বর্জন! ধূলোবালি মাখামাখি, মাটির সংস্পর্শে হাঁটা হাঁটি , ছেলেবেলার দূষনমুক্তি! ভবিষ্যতের প্রথম বেলা, নয় হেলাফেলা ,ফিরে আসুক প্রতিবেলা !! লেখক অরবিন্দ সরকার কে শব্দের নির্মাণের পক্ষ থেকে আকাশ সমান ভালোবাসা ও শুভকামনা।  সিলেট, বাংলাদেশ।      

বৃন্তচ্যুত - চিত্র দীপ বসু

Image
ঝুল বারান্দায়, মরা বিকেলের আলপনা, নেভা আলো ক্রমে, আঁধার জঠরে হারায়, চুপকথাদের চুপি চুপি আনাগোনা,  প্রকৃতির সুধা, উজানির স্রোতে ধায়। আলোয় ভরানো, সাজানো পৃথিবী তোমার, ছুঁয়ে থাকি স্মৃতি,নিবিড় গহন আঁধারে, মনকথা যত, গোপনে তোমার আমার, ভেসে চলে গেছে, সুদূর বিজন বাহারে। ভেজা ভেজা যবে মন খারাপের ব্যথা, মনের সে কথা, মনের বন্ধ দুয়ারে, অবেলায় সাজে কোন কাহনের কথা, অজানার পথে হারাবে কথা সায়রে। একফালি আলো, হঠাৎ সোনালী ভোরে, স্বপন সায়রে বিলীন তোমাতে আমি, কুয়াশা ভেজায় আধো নিদ্রাকে ধীরে, ঊষার ভেলায়, নবারুণ আসে নামি। ইচ্ছেরা যবে কোলাজের কোলে শোয়া, বুকের আগুন, নীরবে এ মন পোড়ায়, পাওয়ার গভীরে, ক্ষতে ভরা না-পাওয়া, দুটি হাত তবু,আলোর দিশায় বাড়ায়।

সুখের ঠিকানা - আসরাফ আলী শেখ

Image
 সুখ পোশাকের নাম যা অন্যের গায়ে মানায় , নিজের গায়ে পরলে বেমানান ! সুখ  বহুল প্রচলিত এক প্রবাদ , যা সমাজ বয়ে চলে, কোন দিন ছিল না , নেই ও থাকবে ও না! সুখ একটা সম্পূর্ণ ধরনা , আমরা জন্মায় অপূর্ণ নিয়ে , পূর্ণ সুন্দর অব্যয় ! সুখ  নিজেই অসুখে আক্রান্ত , বাইরের পোশাক , ভিতর জলন্ত  !!   সুখ শক্তির পোশাকি নাম, যা দেশে দেশে কালে কালে রঙ পাল্টে নেয় ! সুখ অজানা জিবানু , যা সবাই কে আক্রান্ত করে অতীত ভবিষ্যত ও বর্তমান কে ও!

আবার যদি ফিরে আসো - সুশোভন আদক

Image
 আবার যদি ফিরে এসো পূর্ণিমা রাতে  চাঁদের আলোর জ্যোৎস্না গায়ে মেখে  তুমি হবে আমার কাব্যের মেঘ বালিকা  বাতায়নের দ্বারে থাকবে সারারাত বসে ।  আবার যদি ফিরে এসো বৃষ্টির দিনের রাতে খোলা এলো চুলে সুবাস গন্ধ গায়ে মেখে লক্ষ্মীপেঁচা ডাকবে শিমূল গাছের ডালে বিন্নিধানের খই থাকবে উঠোন দালান টাতে ।  আবার যদি ফিরে এসো মেঘমল্লার হয়ে কালোমেঘের সঙ্গী হয়ে যক্ষ্মপ্রিয়ার দেশে বন ময়ূর  পেখম তুলে দাঁড়িয়ে থাকবে কত জোনাকি পোকা আসর পাতে বনের পরে শত  ।  আবার যদি ফিরে এসো গাঁয়ের বধূ হয়ে সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে নিয়ে লাল আলতা পায়ে দিনের শেষে বাড়ি ফিরে আবার দেখা হবে তখন গ্রাম্য বধূর পূজোর মালা গাঁথা শেষ হবে

কথা সাহিত্যিক ও কবি রফিকুল ইসলাম প্রিন্সের উক্তি সমূহ

Image
১.মানুষ তার দীর্ঘশ্বাসের মতোই একা। ২.একদিন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিবো, হয়তো কোনো অভিযোগ থাকবে না৷ বিদায় বেলা অভিযোগ থাকতে নেই। ৩.মৃতৃেরও শুকায় গলা। তারা তৃপ্ত  হয় জীবিতের  চোখে জলে। ৪.মানুষ যখন তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন স্বপ্ন দেখা কেবল বিলাসিতা। ৫.সব হারানোর ব্যাথা যে একবার পেয়ে যায়, তার আর কিছুই হারানোর ব্যাথা থাকে না। ৬.মনের ক্ষত, মাংস্পিন্ডের ক্ষতের চেয়েও ভয়ানক। কারন সেটা দেখা যায় না। ৭.আরো কিছুক্ষন থেকে যাও প্রিয় এখনো অনেক কিছু গোপন রয়ে গেছে। এখনো শতবার ভালোবাসা বলা বাকি আছে। ৮.তবু নিরব কান্নার রচনা বুনে যায় চড়ুই। অপেক্ষায় ভারী হওয়া কান দুটো খুঁজে সেই প্রিয় কন্ঠস্বর। ৯.শুধু দেহের সাজে সীমাবদ্ধ আমাদের চোখ, মন খুঁজেতে খুঁজেতে নিজেই হারিয়ে যায় মানুষগুলো। ১০. আঁকড়ে ধরে বাঁচা যায় না,একদিন না একদিন উপচে পড়ার ভয় থেকেই যায়। ১১.জীবন যখন তোমায় দেখতে চাইবে তখন তুমি উন্মুক্ত হও, আর তখনই জীবন তোমায় বাঁচতে শিখাবে। ১২.জীবনে সবচেয়ে কঠিন কাজ মানুষকে ভালোবাসা। ১৩.পরোক্ষভাবে নারীও এক প্রকার সেলাই মেশিন। কত সম্পর্ক জুড়ে সংসার সাজাতে হয়। ১৪.নারী, তুমি...

সালমান হাবীব - কবিতায় গল্প বলা মানুষ

Image
 দিনের শেষ আলোয় লাল হয়ে আসা দিগন্তে চোখ রেখে নীলাকে বললাম;  আমিও একদিন আকাশ হবো, দৃষ্টিতে পুরে রাখা আকাশ।  সে অমন অবাক চোখে তাকালো;  যেন আকাশ হতে চাওয়া পাপ,  আকাশ দেখা অন্যায়!  নীলা সেই বিস্মিত চোখ জোড়া নিয়ে তাকিয়ে থেকে বললো; আকাশ তো অস্পৃশ্য,  ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কেমন বৃত্তের বাইরে!  তুমি বরং সমুদ্র হও, আছড়ে পড়া জল হও, প্রবল জলরাশিতে উছলে পরা উর্মি হও। আমি সেই জলে পা ভেজাবো, ঢেউয়ের তালে গা ভেজাবো, ইচ্ছেমতো ঝাঁপিয়ে পড়বো জলের জলোচ্ছ্বাসে।  তারপর সে চলে গেল।  আমার আর আকাশ হওয়া হলো না। তবে দু চোখের জলে ঠিকই সমুদ্র হলো। সেই জলে ঝড়, জল আর জলোচ্ছ্বাসও হলো। দুকূল ছাপিয়ে জলেরা সব উছলে পড়লো। অথচ সেই জলে পা ভেজানোর কথা বলে ঢেউয়ের তালে গা ভেজানোর কথা বলে  যে চলে গেল সে আর এলো না।

শব্দ - অরবিন্দ সরকার

Image
শব্দ ছোট কথা শব্দ যোগে দেয় ব্যথা! শব্দ কয়েকটি মিলে কবিতা, শব্দের মালায় তীব্র ভাষন বক্তার! শব্দ সৃষ্টি সাহিত্য,গল্প,হাসিকান্না। শব্দের রোলে তীব্র আওয়াজ, বজ্র বিদ্যুৎ হানার? জন্মেই মা শব্দ, জোড়াশব্দে মামা, গোটা বিশ্বে শব্দ জড়িয়ে, বাজে যুদ্ধের দামামা! শব্দ বাধা মানে না,করা যায় না জব্দ? শব্দ ফিসফিস কানে মন্ত্র,শব্দে ফিসফাস প্রেমের গন্ধ! শব্দে কানাকানি, শব্দে ঘুম ভাঙানী! মরার আগে গোঁ গোঁ আওয়াজ এটাও শব্দের বানী! শব্দ তুমি গাঁথা পুষ্পমালিকার রানী! রাজা তুমি খোঁজো আমায়! আছে কি বিকল্প বানী! লেখকঃ- অরবিন্দ সরকার    পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।   শব্দের নির্মাণ এর পক্ষ থেকে লেখকের জন্য শুভকামনা।    সিলেট, বাংলাদেশ।  আপানর লেখা আমাদের ব্লগে প্রকাশ করতে.? লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন.?

বাবা - অরবিন্দ সরকার

Image
সৃষ্টি কর্ত্তা ,বিধাতা ! সারাজীবন লড়াই ক'রে ক'রে সংসারের সেবা! কার কি প্রয়োজন, মানেনা  সময় দিনক্ষণ। বানী তার শুনি , পরিশ্রমের বিকল্প নাই! আহারে আহা! কেউ বলার নাই! সবার শেষে খাওয়া,কারো  নজর নাই! তিনিই বাবা !  সকালে ঘুম ভাঙ্গার আগেই তাঁর যাত্রা! পাখীরা নীরে ফেরার পরে, ধীরে ধীরে ফেরা ! উঃ আঃ শব্দ নেই, পাছে কারো ব্যাঘাত ঘটে তাই মার্জার পদনিক্ষেপ!! অবসর নেই, ক্লান্তি নেই শরীরে! যত্ন নেবার সবাই আছে,তার- যত্নের অভাব উঁকি মারে দরজা,দেওয়াল! পিঠ ঘসে ওখানেই, মাথা ঠুকে মরে ওখানেই! কান্নার অশ্রু কেউ দেয়না সামাল? পাঁজরের হাড়ে, কঙ্কালসার চিহ্ন! বাবাকে কাঁদতে নেই , তাই তিনি পথপ্রদর্শক অভিন্ন! প্রতিরূপ হয়না বাবার স্থান, তাঁর চোখে পরিবার সমান! শুধু তিনি ছাড়া ! সৃষ্টিকর্তা মহান! দিনরাত সমান! আহার বিহার তাঁর জন্য নয়! জীব দিয়েছেন যিনি- আহার দেবেন তিনি! তাই তাঁর দাসখত্ ! সংসারের ভারে নূব্জ কুব্জ  বংশের ক্রীতদাস !! লেখকঃ- অরবিন্দ সরকার।  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।  শব্দের নির্মাণ এর পক্ষ থেকে  লেখকের জন্যে শুভ কামনা আকাশ সমান।  সিলেট, বাংলাদেশ।  আমাদের ব্লগে আপনা...

মূর্তি - অঞ্জলি দে নন্দী

Image
মা মেয়ের জন্ম দিয়েই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরতরে চলে গেল। বিপত্নীক বাবাটা কাঁচা হাতেই মেয়েটাকে বড় করল। মাটির কুঁড়ে ঘরে ওরা বাবা মেয়ে খুব সুখী। মাঝে মাঝে মাঝে শুধু বাবা নীরবে মেয়েকে বুকে চেপে ধরে কাঁদে যখন ওর ছোট্ট মুখ দিয়ে প্রশ্ন বের হয় - " বাবা সবার মত আমার কেন মা নেই? "  দেখতে দেখতে দেখতে ও কিশোরী হল।  বাবা মাটির মূর্তি গড়ে পাকা হাতে। এখন সব মূর্তিতেই ওর কন্যার রূপ ফুটে উঠছে। মেয়েই শ্রী দেবী। আবার শ্রী দেবীই মেয়ে। ভাব ভক্তি স্নেহ ভালোবাসা বাস্তব কল্পনা প্রাণহীন জীবন্ত - সব মিলেমিশে একাকার।  আশ্বিন মাসে মূর্তি সম্পূর্ণ করে ফেলতে হবে। তাই দ্রুত কাজ করছে ওরা। সেদিন প্রতিদিনের মতই মেয়ে বাবার কাজে সাহায্য করছে। কন্যা বাবার গড়া মাতা শ্রী দুর্গা দেবীর কেশ বানাচ্ছে। ভাদ্র মাস। খোলা আঙিনায়। বিকালে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। আবছা আলো। প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়েই এসেছে। বাবা বলল, " মা অঞ্জলি! সন্ধ্যেটা দিয়ে দে মা! " ও তুলসী তলায় দীপ জ্বালালো। শঙ্খ বাজালো। এবার ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করছে। এমন সময় ডান পায়ের পাতায় আঙুলের কাছে সর্প দংশন করলো। ও চিৎকার করে ডাকলো, " বাবা গো আমার পায়ে কি কামড়া...

মনির কালো রঙে - আসরাফ আলী শেখ

Image
চোখের পানিতে এত ছবি দেখে নি আগে, তোমায় দেখে নিষ্পলকে চেয়ে ছিলাম আমি! চোখের জলে কথা বলে শুনিনি তো আগে, তোমার থেকে ই লিখলাম প্রিয় পাঠক ছিলাম আমি! কাঁদা ও শিক্ষা দেয় বুঝতে পারি নি আগে হৃদয় জুড়ে প্রতিক্ষণে  কান্নার রোল ওঠে, প্রয়ার হাত  ধরার আগে  ছাড়ছে  চোখ প্রিয় জনে , হৃদয় পলকে তাকিয়ে থাকি কোথায় যেন ফেলে যাচ্ছি তোমাকে! চারিদিকে ঘিরে সবাই  তবু সিঁধেল করে বেরিয়ে আসে কঙ্কাল মন খানি , মনির কালো রঙ মাখামাখি করে রবে তুমি ‌বাসর রাতের ঘরে।। লেখকঃ- আসরাফ আলী শেখ পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।    লেখকের জন্যে শুভকামনা ও ভালোবাসা শব্দের নির্মাণের পক্ষ থেকে।  সিলেট, বাংলাদেশ।  আপনার লিখা আমাদের ব্লগে প্রকাশ করার জন্যে আমাদের পাঠাতে পারেন.?  আপনার লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন.?

মা - অরবিন্দ সরকার

Image
তোমায় কবে দেখবো মা ? ছটফট করছি বাইরে বেরুতে ! দশমাস সেতো অনেক পথ , ঠিক আছে মা , চেয়ে রবো নিলাম শপথ!! মা কি খেলে এখন খুব মিষ্টি,--  আম ও---- । এ ফলের রাজা ? আচ্ছা তেঁতো ও তুমি খাও ? ঝাল ও খাও ? টক ফল সেটাও খাও । আচ্ছা মা সব ফলের স্বাদ এক নয় ! নানারকমের নানা বর্ণের তাইনা ?? হ্যাঁ যেমন সব মানুষই মানুষ না ? সব মানুষ সমান না সেরকম? তাই বুঝি ! তাহলে মায়ের মতো স্নেহ মমতা ভরা আর কে আছে ? মায়ের মতো কেউ নেই ? সে একা শুধুমাত্র একা মৃন্ময়ী চিন্ময়ী মা !! শুধু মাত্র পেটের যন্ত্রণার আর্তনাদ !!  মা তুমি খুব ভালো বলো ! কতো গল্প বলো আমি শুনি। তুমি ঘুমাও আমিও তোমার সঙ্গেই ঘুমাই । তুমি কাঁদো কেনো গো ? আমার কষ্ট হয় ! আমি দুঃখ ভালোবাসিনা ? হাসতে খেলতে চাই ? ওমা শুনছো আর কতোদিন মা ? এখনো দশ মাসের পথ কি দূরে ? কতো দূরে মা ? আর পারছিনা তোমার মুখ দেখবো বলে চেয়ে আছি ?? মা তুমি যা খাও আমি তাই খাই ? তোমার সঙ্গে কি আমার নাড়ীর যোগাযোগ ? কি খেলে মা ? ভেতরে গরম যন্ত্রণা ছটফট করছি মাগো ? তোমার কষ্ট হচ্ছে না ? আমি কি আর তোমার মুখ দেখতে পাবোনা ?  তোমরাও হিংস্র পশু । এতো খেয়েও পেট ভরলো না ? আমাকেও...

অপেক্ষা - তন্ময় হালদার

Image
অপেক্ষা তুমি বড়ই অদ্ভুত এক শব্দ, তোমায় চয়ন করা নয়কো কম শক্ত।       গরীব কৃষক দিন গোনে, করতে থাকে তাঁর কষ্টের ফসলের অপেক্ষা। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা কোনো এক হতভাগ্য বাবা-মা, করতে থাকে তাঁদের একমাত্র ছেলের অপেক্ষা। মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলে বা মেয়েটা করতে থাকে একটা ছোট্ট চাকরির অপেক্ষা। তবে তোমায় যারা করতে পেরেছে আপন, সফলতার আলোয় পূর্ণ করেছ তাদের চেতন; অনেকের আবার গোধূলির শেষ আলোয় ভিজে গেছে নয়ন। অপেক্ষা তুমি বড়ই অদ্ভুত এক শব্দ, শুধু শব্দ বললে অনেক কিছু কম হয়ে যাবে হয়ত। দীনদুখী মা ভিটেয় বসে কাঁথা বুনতে বুনতে, করতে থাকে বিদেশ থাকা তাঁর ছেলের অপেক্ষা। প্রেমিক তাঁর অন্তর-আকাশে সপ্নের তুলি বোলাতে বোলাতে, করতে থাকে তাঁর মনের মানুষের অপেক্ষা! জীবনের প্রতিটি কর্মে প্রতিটি মুহূর্তে, তোমার দ্বারস্থ হতে হতে আজ মোরা বড়ই ক্লান্ত; তবে সফলতার ইচ্ছেয় বারেবারে সঙ্গ নিয় নিতান্ত।       অপেক্ষা সবার! অপেক্ষা আমার, অপেক্ষা তোমার। লেখকঃ- তন্ময় হালদার    দঃ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। শব্দের নির্মাণের পক্ষ থেকে লেখকের জন্যে আকাশ সমান ভালোবাসা ও শুভকামনা।...

মধ্যবিত্ত - শরিফুল ইসলাম

Image
আমি মধ্যবিত্ত, আমার দিন কাটে স্বচ্ছলতার চিন্তায়। রাত্রি কাটে নির্ঘুম, সংসারে অভাব-অনটন! আমার মায়ের মলিন মুখ, বাবার ময়লা শার্ট। বোনের পড়ার ফিস, আমার নতুন শীট; কিন্তু হায় অর্থ করে লুকোচুরি! সংসারে আয় নেই, বাবার চোখে ঘুম নেই। মা নিশ্চুপ, ছেঁড়া আঁচল দিচ্ছে উঁকি! আমার বয়স গুনে গুনে বত্তিত্রিশ, তবুও কপালে চাকরী নেই! গ্রাজুয়েশন কম্পিলিট সেই কবে, রেজাল্ট- ফাস্ট ক্লাস! কিন্তু ঘুষ দেবার অর্থ, সামর্থ্য দুই নেই! আমি মধ্যবিত্ত, হ্যাঁ; আমিই মধ্যবিত্ত। আমার পেটে ক্ষুধা নেই, ইদে নতুন জামা নেই। চোখের কোণে জল নেই; বুকের ভেতর মন নেই! হাতে টাকা নেই, সমাজের কাছে আমার কোনো দাম নেই! প্রিয়সী চলে যায়, “ভালো থেকো” বদ-দোয়া করে! দিন যায়, মাস যায়; বছর বছর দ্রব্য মূল্যের দর বাড়ে। গ্যাসের বিল বাড়ে, কারেন্টের দাম বাড়ে; তাস সাথে পালা দিয়ে নিয়মিত ট্যাক্স বাড়ে। বাড়ে না শুধু, আমার মাসিক আয়! আমি মধ্যবিত্ত, আমার সম্মান যাবার ভীষণ ভয়। পাছে লোকে কিছু বলে, সংশয়ে দিন কাটে! পকেটে অর্থ নেই, সত্য বলার সাহস নেই; মৃত্যুর ভয় বিষম ভীষণ, হইচই আমার বড্ড অপছন্দ। আর তার কারণ, আমি মধ্যবিত্ত; হুমম মধ্যবিত্ত! বইঃ- প্রেম ও দ্রোহ  লেখকঃ...

তোমার প্রিয় তুমিই

Image
প্রিয় আমি নিজেকে তুচ্ছ ভেবো না। নিজেকে ছোট ভেব না। নিজেকে কখনো বলো না, 'আমি হতভাগা'। আমি একটা লুজার। আমি একটা অভিশাপ। আমি একটা বোঝা। আমি একটা বোকা বলো না এসব। এসব বলার মত অনেক মানুষই আছে। তাদের কথা বিশ্বাস করো না। মানুষ আরো জঘন্য কথা বলবে। সেগুলো হজম করতে শিখো নিজেকে নিজের চিন্তার জালে ফেলে খুন করো না নিজেকে নিজেই সামলে রাখতে শিখো। নিজেই নিজেকে আলোর পথে নিয়ে চলো তোমার প্রিয় তুমিই নিজেকে একবার ভালোবেসেই দেখ। নতুন করে বাঁচার জন্য কি রকম সাহস জেগে উঠে।                                                         

ঠাকুরমার বুলি - অরবিন্দ সরকার

Image
বারো বছরে বিয়ে, বাসরঘরে জোর করে ঢুকিয়ে, দরজা কুলুপ! সারারাত দুজনকে জানতে, স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে, মোরগের ডাকে ,ঘুম ফুরুত! কানাকানি,জানালা টানাটানি, ঠাকুরজামাই,নন্দাইদের ছিদ্র দিয়ে,দেখার কৌতুহল! না জানি কি কাণ্ড ঘটিয়েছি? রবি সাড়া দেবার আগেই, দরজা হোলো হাট! চুপিসারে একহাত ঘোমটায় লজ্জ্বা নিপাত যাক! লজ্জ্বায় রাঙামুখে, দ্বারের একফাঁকে লুকোচুরি খেলা! কাতুকুতুতে সবায় খুশি, সিঁদুরে কপালে ছোপ ছোপ দাগ! হাঁসির জোয়ারে , তির্যক ঠাট্টার মাতামাতি ,হানে বাক্যবান? এযুগে আগেভাগেই, মোলাকাত, পরিচয়, টাকা পয়সার ভাগবাটোয়ারা! কার কি আছে তার হিসেব চূলচেরা? বাসরের আলাপ - সে পাঠ শেষ! পড়াশোনা মোবাইল বিনা হয়না? ওতেই পাঠ্যপুস্তক নাড়াচাড়া!  লেখাপড়া বেশ! ভালোবাসার কাহিনী,রোমাঞ্চ জাগেনা ,অশ্বত্থামা হত ইতি গজ! চুপিসারে, চুপচাপ না, প্রকাশ্যে লাজ হারিয়ে আনাগোনা! প্রেমপত্র, জানেনা অত্র, সরাসরি ডাক? কোথায় আছি,সে কোথায়, পাঁচ মিনিটেই হাজির, মোবাইল দয়ায়! বাসরের স্বাদ,চিঠির বাক্স বাদ, ভাদর কার্তিক মানামানি নেই, শুভ বিবাহ  রাতদিন সবমাস!! লেখকঃ- অরবিন্দ সরকার    অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক...

ব্রাশ ~ স্পৃহা ঢালী

Image
সকালে নাস্তা বানিয়ে বরকে খাইয়ে অফিস পাঠিয়ে দিয়ে যখন দাঁত ব্রাশ করতে যাই।প্রায়ই লক্ষ্য করি আমার ব্রাশ টা ভেজা।মনে মনে বলি,হয়তো বেসিনে মুখ ধোয়ার সময় বরের হাত থেকে পানি ছিটে গেছে।নয়তো গত কাল যে দাঁত ব্রাশ করে ব্রাশ ধুয়ে রেখেছি,সেই পানি হয়তো এখনো শুকায়নি। একদিন শুক্রবার তার অফিস ছুটির দিনে যেই না গেছি দাঁত ব্রাশ করতে, দেখি বর আমার ইচ্ছে মত ব্রাশ করে যাচ্ছে আমার ব্রাশ দিয়ে।দেখেই আমি বমি করবো করবো অবস্থা। -ইয়াক ইয়াক তুমি তাহলে প্রায়ই আমার ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজো?তাইতো আমার ব্রাশ ভেজা থাকে।গিধড় কোথাকার। ঘৃণা লাগেনা? বর আমার উত্তর দেয় - স্বামী-স্ত্রীতে ঘৃণা কেন থাকবে? অথচ আমি ভেবেছি সে ইয়াক ইয়াক করে ব্রাশ টা ছুড়ে ফেলে দিবে।কারণ সেও জানতোনা সে যে এত দিন ভুল করে আমার ব্রাশ ইউজ করেছে। মনে পড়ে গেলো এক স্মৃতি, বিয়ের পরের দিন আমি আমার ব্রাশ মনে করে ভুল করে বরের নতুন ব্রাশ দিয়ে দাঁত মেজে ফেলেছিলাম। তখন দেবর এসে উত্তর দিলো, আমি একদিন ভুল করে ভাইয়ার ব্রাশ দিয়ে দাঁত মেজেছিলাম বলে ভাইয়া সাথে সাথে ব্রাশ টা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো। আজ দেখি ভাইয়া কি করে, পরে দেখলো ওর ভাইয়া সেদিন ব্রাশ ...

রাজাকার - শরিফুল ইসলাম

Image
এই বাংলা আমার দেশ না, আপনি বরং আমায় রাজাকার বলেই ডাকুন! সাড়ে ছাপ্পানো হাজার বর্গ মাইলের এই দেশ, আমার না! আমি তো রাজাকার, রাজাকারের বাচ্চা রাজাকার! বিশ কোটি জনতা, যারা এ দেশে বাস করে; এ দেশ তাদেরও না! এই দেশ কিছু চেতনা বাজদের একার,  যারা এয়ারকন্ডিসনে বসে দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। আমি বললাম, কোটার সংস্কার চাই; মেধার সঠিক মূল্য চাই। তারা আমাকে গুম করলো, জলে ডুবিয়ে মারলো! সবশেষে রাজাকার বলে সম্বোধন করলো! কারণ আমি দেশের, দশের ভালো চেয়েছি, তাদের না। কারণ আমি, যোগ্য ব্যক্তির জন্য যোগ্য দাবী করেছি; চামচামি করিনি। তারপর বললাম, নিরাপদ সড়ক যাই, যত্রতত্র পিষিয়ে দেবার অবসান চাই। তারা লাঠিচার্জ করলো, বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়ে আসলো। দেখলো কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হচ্ছে না, তাই জাতির সামনে বলে উঠলো; আমি রাজাকারের বাচ্চা রাজাকার! আমি এখন দেশ ছেড়েছি, কিংবা বলি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি;  কারন দেশটা তো ভাই আমার না! দেশটা ওদের, ওদের বাপের! যাদের জন্য এতকিছু করেছি, দিন শেষে দেখেছি;  তারা সব কাপুরুষ! মৃত্যুর ভয়ে সত্য বলে না, মেয়ের ইজ্জৎ যায়; কিন্তু মুখ খুলে না। মায়ের সামনে সন্তানরে কোপায়, মায় আর্তনাদ করে না...

শূণ্যতা - আবদুর রহমান

Image
নিয়ম করে এখন আর কবিতা লেখা হয়না।  কারণ কবিতা লিখতে গিয়ে যে আপনাকে লিখে ফেলি। জানেন! এখন আর আকাশ দেখাও হয়না। কারণ, ঐ দূর আকাশে তাকালে আপনিই যেন ভেসে উঠেন। সেই দিন গুলোর মতো চাঁদনী রাতে পাতার ফাঁকে ফাঁকে চাঁদও দেখা হয়না। দেখতে গেলেই যে চাঁদ আপনাকে ভাবায়। আপনি বিহীন যাইনা ওই মেঘনার পাড়েও। মেঘনার জলে তাকালে অজান্তেই চোখে জল আসে। হাঁটা হয়না গোধূলি বেলাতেও। কারণ গোধূলি আমি দেখতে পাইনা। দেখি শুধু কালো অন্ধকার। সে অন্ধকারে আপনি বিদায় জানিয়ে চলে যাচ্ছেন। আপনি বিহীন বৃষ্টিতে ভিজলে বৃষ্টি তো না, যেন গায়ে কাঁটা পড়ে। আর আকাশ গুড়ুম গুড়ুম আওয়াজ, যেন বুকের ভেতর হাহাকার আপনার জন্য। তাই এখন বৃষ্টিতেও ভিজিনা। এক আকাশ শূন্যতা নিয়ে পড়ে থাকি অন্ধকারে। ধন্যবাদ! ভালোবাসায় শব্দের নির্মাণ এর সাথে থাকুন।

ক্ষয় ~ শরীফ উদ্দীন

Image
পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। শিক্ষক আসার আগে ফাস্ট বয় সোহান নিজের বেঞ্চ ছেড়ে সামনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে সবাইকে শান্ত করে প্রস্তাব দিল, ‘বন্ধুরা, আজ স্কুলে আসার সময় আমি রাস্তায় দশ টাকা কুড়িয়ে পেয়েছি। টাকাটা রতনকে দিয়ে দিই? রতন এদিকে আয়।’ সোহানের কথায় রতন তৃতীয় বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে টাকা নিতে অসম্মতি জানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘কুড়িয়ে পাওয়া টাকা আমি নিব কেন?’ সোহানকে করা রতনের প্রশ্ন শুনে ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করল। দুবছর হতে চলল। রতনের বাবা-মা ব্র্যাক অফিসে ঋণের টাকা তুলতে যাবার সময় গোল চত্বরের কাছে রিক্সাচালক সিগন্যাল ভুল করলে ডানদিক থেকে আড়াআড়িভাবে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই রতনের মা আর রিক্সাচালক মারা গেলেও রতনের বাবা বেঁচে যান। অনেক টাকা খরচ করে রতনের বাবার নিঃশ্বাস নেয়ার শক্তি টিকে গেলেও পা দুটো চিরদিনের মতো অসাড় হয়ে গেল। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রতন বড়। স্কুলে আসার সময় রতন হুইল চেয়ার ঠেলে বাবাকে থানার মোড়ে নিয়ে আসে। স্কুল ছুটি হলে ফেরার পথে নিয়ে যায়। সংসার চালানোর জন্য রতনের বাবা থানার মোড়ে ভিক্ষে করে। টাকা নিতে অস্বীকার করে রতনের প্রশ্নের প্রতিউত...