ঠাকুরমার বুলি - অরবিন্দ সরকার
বারো বছরে বিয়ে, বাসরঘরে জোর করে ঢুকিয়ে, দরজা কুলুপ!
সারারাত দুজনকে জানতে, স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতে,
মোরগের ডাকে ,ঘুম ফুরুত!
কানাকানি,জানালা টানাটানি,
ঠাকুরজামাই,নন্দাইদের ছিদ্র
দিয়ে,দেখার কৌতুহল!
না জানি কি কাণ্ড ঘটিয়েছি?
রবি সাড়া দেবার আগেই,
দরজা হোলো হাট! চুপিসারে
একহাত ঘোমটায় লজ্জ্বা নিপাত যাক!
লজ্জ্বায় রাঙামুখে, দ্বারের একফাঁকে লুকোচুরি খেলা!
কাতুকুতুতে সবায় খুশি, সিঁদুরে
কপালে ছোপ ছোপ দাগ!
হাঁসির জোয়ারে , তির্যক ঠাট্টার মাতামাতি ,হানে বাক্যবান?
এযুগে আগেভাগেই, মোলাকাত,
পরিচয়, টাকা পয়সার ভাগবাটোয়ারা!
কার কি আছে তার হিসেব চূলচেরা?
বাসরের আলাপ - সে পাঠ শেষ!
পড়াশোনা মোবাইল বিনা হয়না?
ওতেই পাঠ্যপুস্তক নাড়াচাড়া! লেখাপড়া বেশ!
ভালোবাসার কাহিনী,রোমাঞ্চ জাগেনা ,অশ্বত্থামা হত ইতি গজ! চুপিসারে, চুপচাপ না,
প্রকাশ্যে লাজ হারিয়ে আনাগোনা!
প্রেমপত্র, জানেনা অত্র, সরাসরি ডাক?
কোথায় আছি,সে কোথায়, পাঁচ মিনিটেই হাজির, মোবাইল দয়ায়!
বাসরের স্বাদ,চিঠির বাক্স বাদ,
ভাদর কার্তিক মানামানি নেই,
শুভ বিবাহ রাতদিন সবমাস!!
লেখকঃ- অরবিন্দ সরকার
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।
পশ্চিমবঙ্গ, মুর্শিদাবাদ।
শব্দের নির্মানের পক্ষ থেকে লেখকের জন্য আকাশ সমান ভালোবাসা ও শুভকামনা।


Comments
Post a Comment