ক্ষয় ~ শরীফ উদ্দীন
পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। শিক্ষক আসার আগে ফাস্ট বয় সোহান নিজের বেঞ্চ ছেড়ে সামনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে সবাইকে শান্ত করে প্রস্তাব দিল, ‘বন্ধুরা, আজ স্কুলে আসার সময় আমি রাস্তায় দশ টাকা কুড়িয়ে পেয়েছি। টাকাটা রতনকে দিয়ে দিই? রতন এদিকে আয়।’
সোহানের কথায় রতন তৃতীয় বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে টাকা নিতে অসম্মতি জানিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘কুড়িয়ে পাওয়া টাকা আমি নিব কেন?’
সোহানকে করা রতনের প্রশ্ন শুনে ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করল।
দুবছর হতে চলল। রতনের বাবা-মা ব্র্যাক অফিসে ঋণের টাকা তুলতে যাবার সময় গোল চত্বরের কাছে রিক্সাচালক সিগন্যাল ভুল করলে ডানদিক থেকে আড়াআড়িভাবে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই রতনের মা আর রিক্সাচালক মারা গেলেও রতনের বাবা বেঁচে যান। অনেক টাকা খরচ করে রতনের বাবার নিঃশ্বাস নেয়ার শক্তি টিকে গেলেও পা দুটো চিরদিনের মতো অসাড় হয়ে গেল।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে রতন বড়। স্কুলে আসার সময় রতন হুইল চেয়ার ঠেলে বাবাকে থানার মোড়ে নিয়ে আসে। স্কুল ছুটি হলে ফেরার পথে নিয়ে যায়। সংসার চালানোর জন্য রতনের বাবা থানার মোড়ে ভিক্ষে করে।
টাকা নিতে অস্বীকার করে রতনের প্রশ্নের প্রতিউত্তরে সোহান বলল, ‘তুই কেন নিবি? তুই শুধু টাকাটা নিয়ে গিয়ে তোর বাবার কোলের উপরের থালায় রাখবি।’
সোহানের কথায় লজ্জায় রতন মাথা নিচু করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও রতনের চোখের জল স্থির থাকল না। মনের কষ্টে রতনের চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ল।
সোহানকে করা রতনের প্রশ্ন শুনে ক্লাসের সবাই হাসতে শুরু করল।
দুবছর হতে চলল। রতনের বাবা-মা ব্র্যাক অফিসে ঋণের টাকা তুলতে যাবার সময় গোল চত্বরের কাছে রিক্সাচালক সিগন্যাল ভুল করলে ডানদিক থেকে আড়াআড়িভাবে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই রতনের মা আর রিক্সাচালক মারা গেলেও রতনের বাবা বেঁচে যান। অনেক টাকা খরচ করে রতনের বাবার নিঃশ্বাস নেয়ার শক্তি টিকে গেলেও পা দুটো চিরদিনের মতো অসাড় হয়ে গেল।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে রতন বড়। স্কুলে আসার সময় রতন হুইল চেয়ার ঠেলে বাবাকে থানার মোড়ে নিয়ে আসে। স্কুল ছুটি হলে ফেরার পথে নিয়ে যায়। সংসার চালানোর জন্য রতনের বাবা থানার মোড়ে ভিক্ষে করে।
টাকা নিতে অস্বীকার করে রতনের প্রশ্নের প্রতিউত্তরে সোহান বলল, ‘তুই কেন নিবি? তুই শুধু টাকাটা নিয়ে গিয়ে তোর বাবার কোলের উপরের থালায় রাখবি।’
সোহানের কথায় লজ্জায় রতন মাথা নিচু করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও রতনের চোখের জল স্থির থাকল না। মনের কষ্টে রতনের চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ল।
মা-বাবারা এখন সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার জন্য সাথে করে প্রাইভেট-কোচিংয়ে নিয়ে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করেন কিন্তু কাউকে কষ্ট না দিয়ে কীভাবে কথা বলতে হয় সেটা শেখাতে সন্তানকে পাঁচ মিনিটও সময় দেন না। সন্তানদের মানবিক গুণাবলী অর্জিত হবে কি করে!
হয়তবা মা-বাবাদের কাছে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার সংজ্ঞা বদলে গেছে।

Comments
Post a Comment