মূর্তি - অঞ্জলি দে নন্দী

মা মেয়ের জন্ম দিয়েই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরতরে চলে গেল। বিপত্নীক বাবাটা কাঁচা হাতেই মেয়েটাকে বড় করল। মাটির কুঁড়ে ঘরে ওরা বাবা মেয়ে খুব সুখী। মাঝে মাঝে মাঝে শুধু বাবা নীরবে মেয়েকে বুকে চেপে ধরে কাঁদে যখন ওর ছোট্ট মুখ দিয়ে প্রশ্ন বের হয় - " বাবা সবার মত আমার কেন মা নেই? " 


দেখতে দেখতে দেখতে ও কিশোরী হল। 


বাবা মাটির মূর্তি গড়ে পাকা হাতে। এখন সব মূর্তিতেই ওর কন্যার রূপ ফুটে উঠছে। মেয়েই শ্রী দেবী। আবার শ্রী দেবীই মেয়ে। ভাব ভক্তি স্নেহ ভালোবাসা বাস্তব কল্পনা প্রাণহীন জীবন্ত - সব মিলেমিশে একাকার। 


আশ্বিন মাসে মূর্তি সম্পূর্ণ করে ফেলতে হবে। তাই দ্রুত কাজ করছে ওরা। সেদিন প্রতিদিনের মতই মেয়ে বাবার কাজে সাহায্য করছে। কন্যা বাবার গড়া মাতা শ্রী দুর্গা দেবীর কেশ বানাচ্ছে। ভাদ্র মাস। খোলা আঙিনায়। বিকালে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। আবছা আলো। প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়েই এসেছে। বাবা বলল, " মা অঞ্জলি! সন্ধ্যেটা দিয়ে দে মা! " ও তুলসী তলায় দীপ জ্বালালো। শঙ্খ বাজালো। এবার ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করছে। এমন সময় ডান পায়ের পাতায় আঙুলের কাছে সর্প দংশন করলো। ও চিৎকার করে ডাকলো, " বাবা গো আমার পায়ে কি কামড়ালো? খুব জ্বলছে গো বাবা! " বাবা মূর্তি গড়ার কাজ ফেলে রেখে ছুটে এলো। দেখলো - একটি কালী গোখরো সাপ এঁকেবেঁকে চলে যাচ্ছে। বাবা ওকে নিয়ে চলল কাছের ডাক্তারখানায়। সেখানে কিছুই চিকিৎসা হল না। চলল দূরের হাসপাতালে। পথেই সব শেষ। ওর নীল দেহ। মাথাটা বাবার কোলে। বাবা কেঁদে উঠলো। ঘরে ফিরলো। পাড়ার সবায়ের সঙ্গে বাবাও মেয়ের দেহ দাহ করে শূণ্য ঘরে ফিরলো। 


সব মূর্তি বাঁশের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল। আর কখনই বাবা কোনোও মূর্তিই গড়লো না জীবনে। 


এর কয়েকবছর পর বাবা নদের জলে নাইতে গিয়ে আর ফিরলো না। তার হাতে গড়া সব মূর্তির মতই সেও চিরতরে বিসর্জিত হল।



লেখিকাঃ- অঞ্জলি দে নন্দী, মম 

নতুন দিল্লী, ভারত।


শব্দের নির্মাণ এর পক্ষ থেকে লেখিকার জন্যে আকাশ সমান শুভকামনা।

সিলেট, বাংলাদেশ।  


আমাদের ব্লগে আপনার লেখা পাঠাতে পারেন.? আমরা প্রকাশ করব.?  লেখা পাঠাতে ক্লিক করুন.? 

    

Comments

Popular posts from this blog

শূন্য - শরিফুল ইসলাম

ফাও আলাপ

ক্ষয় ~ শরীফ উদ্দীন

অঙ্ক - চিত্রদীপ বসু

অতৃপ্ত মন - সৈয়দ সানুর আহমেদ

তুই কি আমার দুঃখ হবি - আনিসুল হক

ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া।

আব্বু-আম্মুর প্রতি সন্তানের হক।

বিরিয়ানি - চিত্রদীপ বসু

To be safe from Shirk read these dua three times.