রাষ্ট্র কিংবা নেতা - শরিফুল ইসলাম
রাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পথিমধ্যে, রাষ্ট্র আমায় থামিয়ে বললেন;
কোথায় যাচ্ছেন?
আমি রাষ্ট্রকে বললাম- যে রাষ্ট্রে আমার মা,
বিনাচিকিৎসায় মারা যায়; সে রাষ্ট্রে আমি আর থাকবো না।
আমার কথা শুনে রাষ্ট্র নিশ্চুপ, মর্মাহত;
নীরবতা ভেঙ্গে রাষ্ট্র যখন কিছু বলতে যাচ্ছিল,
ঠিক তখনি;
রাষ্ট্রকে থামিয়ে দিয়ে, রাষ্ট্রের এক নেতা বললো;
চিকিৎসা করার মতো,
তোমার মায়ের অর্থ ছিলো?
আমি বললাম,
যা ছিলো তা আপনার মতো;
কিছু চাউল চোর আত্মসাৎ করে নিয়েছে!
নেতা মুচকি হাসলো, এ যেনো বিদ্রূপের হাসি;
নেতা বললো, তাহলে তার মৃত্যুই শ্রেয় হয়েছে!
আমি আবার বললাম, যে রাষ্ট্রে আমার বোনের নিরাপত্তা নেই;
ধর্ষনের বিচার নেই,
সে রাষ্ট্রে আমি বসবাস করবো না।
রাষ্ট্র আবারো কিছু বলতে চাচ্ছিল কিন্তু বলতে পারলোনা,
রাষ্ট্রের সেই নেতা, আবারও বলে ওঠলো-
রাষ্ট্র ডিজিটাল হয়েছে, নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে;
তারা অবাধ বিচরণ করতে পারে,
ছেলেদের মতো শার্টপ্যান্ট পড়তে পারে;
খোলামেলা পোষাকে ঘুরতে পারে।
অবৈধ সম্পর্ক গড়তে পারে, তার মাঝে দু’চারটা ধর্ষন হতেই পারে;
এতে রাষ্ট্রের কোনো দায়ভার নেই!
নেতার কথা শুনে আমি স্তম্বিত, বিস্মিত!
তারপর, আমি রাষ্ট্রকে বললাম; যেখানে আমি ঘুষের টাকার অভাবে,
বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে ঘুরছি। সে রাষ্ট্রে আমি আর থাকবো না।
আমি রাষ্ট্রের চোখে অশ্রু দেখি, রাষ্ট্র নিশ্চুপ, নীরব।
রাষ্ট্রের সে নেতা আবারও বললো-
তোমার কাছে অর্থ নেই, তোমার জন্য তো সরকারী চাকরী নয়!
তুমি খেতে খামারে কাজ করবে, নদীতে মাছ ধরবে।
শুধু ভালো রেজাল্ট থাকলে হয় না,
সাথে টাকারও প্রয়োজন আছে!
নেতার কথা শুনে আমি এবার নিশ্চুপ, নীরবে প্রস্থান নিচ্ছিলাম;
এই যে নেতা দেখছো, যাকে তোমরা আমার প্রতিনিধি বানিয়েছ;
সে এক চোর, বাটপার; লম্পট। সে কি আমার দোষ?
নেতা তোমরা বানিয়েছ, ভোট তোমরা দিয়েছ;
প্রতিনিধি বানিয়ে আমার ঘারে চাপিয়ে দিয়েছ, সেও কি আমার দোষ?
কোথাও কিছু হলে রাষ্ট্রকে গালি দেও, রাষ্ট্রকে ঘৃণা করো;
এ তোমাদের কেমন বিচার? আজ রাষ্ট্র ছেড়ে যাচ্ছ,
কোথায় যাচ্ছ? অন্য এক রাষ্ট্রে?
তার ভাগ্যেও কি আমার মতো পরিণতি করবে?
তার চেয়ে বরং রুখে দাঁড়াও, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে;
তাকে দমিয়ে দাও।
হুট করেই রাষ্ট্রকে নেতা লাথি মারলো, রাষ্ট্র আর্তনাদ করে ওঠলো।
আমি নির্বাক, নিশ্চুপ; মাথা নিচু করে রাষ্ট্র ছেড়ে যাচ্ছি!

Comments
Post a Comment