Posts

Showing posts from March, 2020

করোনা ভাইরাস একটি আতঙ্কের নাম।

Image
করোনা ভাইরাস" অতি পরিচিত একটি নাম। স্বল্প সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলতে হয়। আজকাল পেপার-পত্রিকা থেকে শুরু করে টিভি চ্যানেল, ইউটিউব আর ফেসবুকের একটা বিশাল অংশ জুড়ে আছে এই করোনা ভাইরাস। লোকজন দফায় দফায় সতর্কতামূলক পোস্ট শেয়ার করছেন। আসলেই করোনা ভাইরাস মহামারীর ন্যায় ধারণ করেছে। সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি, এদেশের তিনজন নাকি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। খবরটা শুনে ভয়টা বেড়েই চলেছে।  জনগণের দ্বারে দ্বারে ছড়িয়ে পরেছে আতঙ্ক। কারোর শুকনো কাঁশি,  সর্দি কিংবা জ্বর হলেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন ভাবছেন "আমাকে করোনা ভাইরাস পেয়ে বসেনিতো?"এমন হলে করোনা ভাইরাস আপনাকে পাক বা নাই পাক,  সন্দেহের ভাইরাস আপনাকে পেয়ে বসবে ঠিকই। আর এই সন্দেহ নামক ভাইরাস করোনার চাইতেও মারাত্মক। সারাদিন দৌড়ে বেড়ানো নাদুস-নুদুস ছেলেটাও পরীক্ষার আগে শুকিয়ে যায়,  হেসে-খেলে সারা বাড়ি মাথায় তুলে রাখা মেয়েটাও চুপচাপ হয়ে যায়। কারণ কি? কারণ একটাই "চিন্তা"। সাধারণ পরীক্ষার চিন্তা যদি বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরীর জীবনে এতটা পরিবর্তন ঘটাতে পারে,  একবার ভেবে দেখেছেন মস্তিষ্কে তাড়া করে বেড়ানো মৃত্যুভয় তাদের জীবনে কতটা পরি...

ইনকাউন্টার ~ আফরাহ্ হুমায়রা

Image
জিসানের সাথে বিয়েটা যদিও আমার অনিচ্ছায় একরকম হুটহাট করেই হয়ে যায়। তবুও বাধ্য হয়েছিলাম মানিয়ে নিতে। ওপর দিয়ে যদিও মানিয়ে নিচ্ছিলাম । কিন্তু ভেতর থেকে জিসানকে আমার একদম সহ্য হচ্ছিল না। ওকে দেখলেই আমার গা জ্বলে উঠেছিল। জানি না আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল ,জিসানের সাথে আমার যায় না। কিংবা আমার সাথে জিসানের যায় না। দুজন মানুষ সব সময় দুই মেরুরই হয়। কিন্তু তাদেরকে মানিয়ে নিতে হয় নিজেদের মাঝে। কথাটা আমিও জানি। কিন্তু মানতে পারছিলাম না। এ কথাটা কিন্তু সত্যি! মানুষ যা জানে সেটা মানতে পারে কম। জিসান স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই আমার বাবার ভীষন প্রিয় ছিল! ছেলে হিসেবে জিসান কোন দিক দিয়েই কম নয়। দেখতে যেমন সুন্দর। ঠিক তেমন সুন্দর তার ব্যবহার। সবার ওকে পছন্দ ছিল ভীষণ। কিন্তু আমারই যে কেন পছন্দ ছিল না ! এটাই জানি না। বিয়ের প্রাথমিক দিকে আমি জিসানের সাথে এত পরিমান দুর্ব্যবহার করেছি। হয়তো কেউ নিজের বাড়ির কাজের লোকের সাথেও এমন দুর্ব্যবহার করে না। কিন্তু জিসান ছেলেটা খুব অদ্ভুত ছিল! আমার এসব দুর্ব্যবহার কখনো গায়ে মাখতো না । সবসময় একটা মিষ্টি হাসি দিত ।যেন এসব কিছুই না। এসব হয...

নারী ~ অবনী জান্নাত

Image
আমি কি? আমি কে? আমি নারী... আমি পরী... আমি মেয়ে... আমি বেশ্যা... আমি মা.......... আমার কদর মেলা না! আমায় ছুঁলে কলঙ্কীনি আমি পুড়লে সতী রানী আমায় মূর্তি করে পুঁজে রাতে মোটা টাকায় বেঁচে। আমি মাসিকে অসূচী, আমার রক্ত সবচেয়ে সূচী, আমায় বাঁচানোর তাগিদ, আমি বাড়লে করবে কিকি। পুরুষত্বের মুখে বলবে, মালটা হেভ্বি হিট। রাতের বেলা হলে, শর্ট স্কার্ট পড়িয়ে, নাইট ক্লাবে কিংবা কারে, ওকে দিতে হবে ডোজ, মুৃখে এসিড মেরে, কিংবা ধর্ষন করে, উড়াধুরা পুড়ে, করে দিতে হবে শেষ। চল আরো হাঁট.................. আমার স্বাধিনতায় মানা। আমি ভোগের বস্তু, আমি নাপাক বস্তু, আমি স্বাধিনভাবে চলতে গেলে, ঘরে দিবে হানা। আমায় পড়তে হবে সিঁদুর বোরকা। পড়তে হবে টিপ। আমি বাজা মাগী হলে, সমাজ করবে ধিক ধিক। আমি কথা বললে চুপ কর, আমার কষ্ট হলে সহ্য কর, এটাই ডেসটিনেশন। আমি মরলে মিডিয়ার গরম খবর হবে আমার সেলিব্রেশন আমি জন্মালে রুন্দ্রনী, দেশের নাম মহাকালী। হায়রে নারী,হায়রে মেয়ে, চারন বলে বদলে দে। সমাজ বলে দেবো গালী আর তুই দিবি হাতে তালি!! Our Another blog ↓ Megh Piyeoon

অসমাপ্ত ~ মোঃ ইয়াসিন

কলমের এক খোঁচায় দীর্ঘ সাতচল্লিশ বছরের দাম্পত্ত জীবনের ইতি টেনে উঠে দাঁড়ালাম। আদিবার দিকে তাকাতেই সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। চশমা ছাড়া সবকিছু আবছা দেখালেও আদিবার ছল ছল করা চোখ আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি। ইচ্ছে করছে তার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেই। কিন্তু এ যে আর হবার নয়। ডিভোর্স পেপারে সাইন করার পর আমি যে পর হয়ে গেছি। রাতুল মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে গেছে। ফিরে তাকায়নি যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে পা রাখা বাবার দিকে। অথচ দাঁড়ি পাকা বৃদ্ধ এক অভাগা পিতা অধীর আগ্রহে চেয়ে আছেন সেদিকে কারোর খেয়াল নেই! ওরা চলে গেছে। দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে ফিরে তাকালাম। টেবিলের উপরে পরে থাকা চশমাটা হাতে নিয়ে পাঞ্জাবির কোনাখানা দিয়ে গ্লাস পরিষ্কার করে মুচকি হাঁসি দিলাম। যাক! সবকিছু ছেড়ে গেলেও চশমাটা আমায় ছাড়তে পারেনি। বাইরে বেরিয়েছি সবে, বৃষ্টি চলে এসেছে। বৃষ্টির টপাটপ ফোঁটা সরাসরি টাকমাথায় এসে পড়লে ব্যাথা পাওয়া যায়, আর সেই ব্যাথায় কাতর করতেই হয়তো রৌদ্র ফুড় করে ছুটে এসেছে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি। দৌড়ে গিয়ে গাড়িতে বসলাম। পুরনো স্মৃতি ধাওয়া করেছে আমায়। সেদিনও বৃষ্টি ছিলো। ছিলাম আমি। বয়স তখন চব্বিশ থেকে পঁশিচে পা রেখেছি। বন্...