Posts

Showing posts from October, 2020

ঋতু শীত - অরবিন্দ সরকার

Image
শীত এসে গেছে ,বুঝে গেছি সবে! গায়ের চামড়া রুক্ষসূক্ষ ,পাতাঝড়া  গাছেরা ন্যাংটা! সাপ সরীসৃপ লুকাবে গর্তে, শামুক,ঝিনুক,গুগলি তার চোখ বন্ধ , যেনো অন্ধ, শরীরের আচ্ছাদনের শেষ স্থানটুকুও মুদিবে তার খুলি। ছেলে ছোকড়ার দল , আগুন পোহাতে গোল হ'য়ে আগুনের চারপাশে,করছে হাত পা গরম! চা এর কাপ করে ঠকঠক্ আওয়াজ, মুখের ভীড়ে। কেটলি বুকে জল ভ'রে, উনুন নাহি ছাড়ে! নদী ,পুকুরে, স্নান আজ বেমানান! উষ্ণ জলে চান। পশুদের সব লোম খাড়া , উত্তুরে হাওয়া বাঁধন ছাড়া, সূয্যিমামার আলোয় কিপটেমি? দিয়ে গলায় দড়ি, খেজুর গাছে হাঁড়ি! রসবসে পিঠে পুলি,নলেনগুড়ের সুঘ্রানে রসগোল্লা দামদারী। নিশুতি রাত্রিবেলা যেনো শোকাহত নিশ্চুপ শব্দহারা! বুড়ো বুড়ি গায়ে কম্বল, গরীবের ছেঁড়া কাঁথা সম্বল, যাযাবরের ছেঁড়া কানি! অঢেল শাকসব্জীর আমদানি, ফল ফুলের সমারোহ! শীত তুমি  ধনীর ! উলেন পোষাকে  তারা জানায় স্বাগত! গরীবের প্রণাম  নিও ,এসোনা অহরহ!

সম্পর্কের ভিত্তি - সালমান হাবীব

Image
"আপনার ভালোবাসা পাবার মতো কোনো যোগ্যতাই নেই আমার"। তাকিয়ে দেখি কখন যেন নীলা এসে দাঁড়িয়েছে পাশে। আহত পাখির মতোন বিষণ্ণ চোখ, শুকনো মুখ, আর গুমোট মেঘের দল— যেন থমকে থাকা ঝড়ের পূর্বাভাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নীলাকে এমন বিষণ্ণ দেখে আমি খানিক ভড়কে গেলাম। তারপর বললাম; কী হয়েছে আপনার? খানিক আগের শোনা ঠিক একই কথাটি পুনরাবৃত্তি করলো নীলা; "আপনার ভালোবাসা পাবার মতো কোনো যোগ্যতাই নেই আমার"। আমি বললাম; কেনো? হঠাৎ এমনটি কেনো মনে হচ্ছে! নীলা বললো; জোড়া ভ্রু, ডাগর চোখ, কলকাতার দাঁত, গালে পড়া টোল, খুনি তিল এসবের কিছুই আমার নেই। অথচ আপনার তো এসব পছন্দ।  আমি খানিক হাসলাম। মনে মনে। সেই হাসির কিছুটা আভাস ছড়িয়ে পড়লো আমার চোখেমুখে। এমন বিষণ্ণ-বার্তার পরও আমাকে হাসতে দেখে নীলা আরও মন খারাপ করলো। ধান-ভর্তি ডিঙি নাওয়ের গলুইয়ে আচমকা জল ছোঁয়ার মতো করে নীলার চোখের পাতা ছুঁয়ে গেল লুকোনো কান্নার জল। আমি নীলাকে ডাকলাম। নীলা সাড়া দিল। কিন্তু চোখের পাতা তুললো না। মাঝখানে অভিমান দাঁড় করিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো দূরে। আমি দু পায়ে দূরত্ব মাড়ালাম। কাছাকাছি গিয়ে হাতের একটা আঙুল ছুঁয়ে বললাম; এদিকে তাকান। বন্ধ চোখের পা...

অতৃপ্ত মন - সৈয়দ সানুর আহমেদ

Image
জোৎস্না রাতে খোলা আকাশের নিচে‚ চোখের ইশারায়—বলছি কথা। আদিম তারাগুলো যখন—দূরদূরান্তে ব্যক্ত করছিল তার মনের ব্যাথা স্বর্গীয় হুর-পরির বেশে তুমি যখন  ঐ দূর আকাশের দেশে দেও  উঁকি। লোলুপ মনে তৃষ্ণার্ত ব্যাকুলতায় আঁড় চোখে  তোমাকেই দেখি। যদি ও মোর হৃদয়ের আবেগ খাতায় স্বর্ণাক্ষরে আছে তোমার নাম লিখা। তবুও ভালো লাগে—রোজ বিকালে তোমার পথ-পানে চেয়ে থাকা। প্রত্যেহ নিশিতে যখন সাজে-গোজে  স্বপ্নে আমার ঘরে তুমি হ‌ও হাজির। কামুক অপরুপা মালতি তনু পানে  চুল-বুল মনের আক্ষেপ করিনা জাহির।  কিন্তু— হায়! অভাগা অন্তর জ্বলে  নাবলা ব্যর্থতার তীব্র যাতনায়। হৃদয়কে অবহেলা করে রক্ত,  তোমার অন্ধ প্রেমের সীমাবদ্ধতায়। প্রেম্ উন্মাদনায় তোমার সাথে   শহর-নগর, যখন  করি বিচরণ বিদ্রুপের স্বরে লোকেরা বলে  দেখো দেখো পাগলের রুদ্র দহন। এ ভুবন ছেড়ে নক্ষত্রের বাড়ি  উড়ে যেতে চাই তোমাকে নিয়ে— চলো না—,চলে যাই পৃথিবী ছেড়ে! যতো দূর চোখে যায়—ততো দূরে, একেবারে পৃথিবীর ঐ পাড়ে Our Another blog ↓ Megh Piyeoon

শূন্য - শরিফুল ইসলাম

Image
আমি শূন্যে বেচে থাকা এক শব্দ শ্রমিক! রুদ্র আমার গুরু, আমি তার ছন্নছাড়া এক শিষ্য! ছোট্ট জীবনে আমার,  পূর্ণতার কোঠা শূণ্যের খাতায়! চারিদিক শুধু অপূর্ণতায় পরিপূর্ণ। তাই শূন্য থেকে এসে, এখন শূন্যে যাবার জন্য লড়ছি! আবার কেউ কেউ আমায় কবি বলে ডাকে,  আমি কবি, শব্দের হাতুড়ি পিটিয়ে;  আগুন জ্বালাই! বিভ্রম এই পৃথিবীতে শব্দরা অট্টহাসে,  কারণ ওইদিকে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন। আমি কবি কিংবা আমি কবি নই,  আমি এক উন্মাদ! আমি গল্পের আদোলে কবিতা লিখি, কবিতার আদোলে পাপির পাপ খোলাসা করি! নেতা আমায় কাগজ ছুঁড়ে দেয়, যেনো কলম থামাই! ধর্ষক মৃত্যু দেখায়, যেনো সত্য না লিখি! কিন্তু সে জানে না, রাতদিন;  আমি যমদূতের সাথে বসে আড্ডা দেই, খোশগল্প করি! কারণ আমি শূন্য থেকে এসে, এখন শূন্যে যাবার জন্য লড়ছি! Our Another blog ↓ Megh Piyeoon