মুনাফিকের পরিচয় ও পরিণাম।


মুনাফিকি তথা কপটতা একটি মারাত্মক রোগ। বিশ্বাসগত দিক থেকে কুফরির নিকৃষ্টতম প্রকার হলো মুনাফিকি। যার ভিতরের অবস্থা প্রকাশ্যের বিপরীত তাকে নিফাক বলে। যার মধ্যে নিফাক রয়েছে সে মুনাফিক।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুনাফিকদের ওহীর মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজও মুনাফিকদের চরিত্র বর্তমান সমাজে রয়েছে। আর বতর্মান যুগে মুখোশ দ্বারী মুনাফিকদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিন দিন। তাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। আর তাদের পরিনিতি হবে জাহান্নাম।

মুমিন মুনাফিক ও কাফিরের বৈশিষ্ট্যসমূহ  নিফাক বলতে কী বোঝায়  কাফিরদের বৈশিষ্ট  মুনাফিকের কবিতা  মুনাফিকরা কাদের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর  নিফাক এর নিদর্শন  মুনাফিকের আচরণ কেন ক্ষতিকর

★ কুরআন ও সুন্নার আলোকে মুনাফিকির পরিচয় ও পরিণাম তুলে ধরা হলো-

মুনাফিকের পরিচয় সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তরা যখন ঈমানদার লোকদের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি। কিন্তু যখন নির্জনে তারা তাদের শাইতানদের সঙ্গে মিলিত হয় তখন তারা বলে, আসলে আমরা তোমাদের সঙ্গেইে আছি, আর আমরা তাদের সঙ্গে ঠাট্টাই করি মাত্র।
(সুরা বাক্বারাহ : আয়াত ১৪)


হজরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে উক্ত স্বভাবগুলোর কোন একটি থাকে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি স্বভাব থেকে যায়-

১. তার কাছে কোনো আমানত রাখলে খিয়ানত করে। ২. সে কথা বললে মিথ্যা বলে।
৩. ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে।
৪. ঝগড়া করলে গাল-মন্দ করে।

(বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)


সুতরাং মুনাফিকদের পরিণামও ভয়াবহ। এ ব্যাপারেও কুরআন ও সুন্নায় কঠোর ভাষায় হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
মুনাফিকির পরিনাম আল্লাহ বলেন, ‘হে নবি! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের সম্পর্কে কঠোর নীতি অবলম্বন করুন। আর তাদের পরিণতির হচ্ছে জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থান। (সূরা তাওবাহ : আয়াত ৭৩)

আল্লাহ আরো বলেন, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থানে অবস্থান করবে।
(সুরা নিসা : আয়াত ১৪৫)

আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীদের এবং কাফেরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আজাব। (সূরা তাওবাহ আয়াত ৬৮)

হজরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,  নিফাক বা মুনাফিক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল আজকের দিনেও আছে, আর সেটা হল ঈমানের পরে কুফরি করা অর্থাৎ ঈমান প্রকাশ করে আল্লাহর দীনের বিরোধী কাজ করা।
(বুখারি)

মুনাফিকরা প্রত্যেকেই দ্বিমুখী আচরণকারী। এক মুখে তারা মুমিনদের সঙ্গে মিলিত হয়। অন্য মুখে ভুল পাল্টিয়ে তারা কাফিরদের সঙ্গে মিলিত হয়।

সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থণা, সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের নিফাকি থেকে হিফাজত করুন। আল্লাহর বিধানের ওপর অটল ও অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। (আমিন)



Comments

Popular posts from this blog

শূন্য - শরিফুল ইসলাম

ফাও আলাপ

ক্ষয় ~ শরীফ উদ্দীন

অঙ্ক - চিত্রদীপ বসু

অতৃপ্ত মন - সৈয়দ সানুর আহমেদ

তুই কি আমার দুঃখ হবি - আনিসুল হক

ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া।

আব্বু-আম্মুর প্রতি সন্তানের হক।

বিরিয়ানি - চিত্রদীপ বসু

To be safe from Shirk read these dua three times.